প্রেম করে বিয়ের ১০টি সুবিধা ও অসুবিধা

অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ না লাভ ম্যারেজ, কোনটা বেশী ভালো?

‘বিবাহ’। মানুষের জীবনের অঙ্গ, একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার। নারী ও পুরুষ – উভয়ের মেলবন্ধন হল বিবাহ। নারী ও পুরুষ মিলে একজন। বিয়ে মানে আবার বংশ পরম্পরা বজায় রাখাও। সব মিলিয়ে বিয়ে মানে এক নতুন জীবনে উত্তরণ।

বিয়েও দুরকমের, প্রেমের বিয়ে আর সম্মন্ধ করে বিয়ে বা দুই বাড়ির অভিভাবকদের অনুমতিক্রমে বিয়ে। ইদানীং প্রেমের বিয়েতেই ভোট বেশি। নারী-পুরুষ বিয়ের আগে একে অপরকে চিনতে চায়। তাঁদের দোষ-গুণ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকতে চায়।

দুই পক্ষের অভিভাবকদের দেখাশোনায় বিয়েতে এই সুযোগ নেই। এখানে বিয়ের পরেই চেনাশোনা, প্রেম। প্রেম করে বিয়ের ভালো দিক যেমন আছে তেমনই আছে কিছু নেতিবাচক দিকও। আমরা এখানে কয়েকটা বেছে নিলাম –

১। নির্বাচনে আপনার পছন্দই চূড়ান্ত

ইতিবাচক দিক :- সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে আপনার পছন্দই শেষ কথা। এখানে কেউ আপনাকে জোর করবে না। বাকি জীবনটা যার সঙ্গে কাটাবেন, সেই নির্দিষ্ট মানুষটিকে বেছে নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা আপনার।

নেতিবাচক দিক :- অনেক সময় আপনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ “নির্দিষ্ট মানুষটিকে”  খুঁজে পেতে অনেক সময় লেগে যায়। জীবনে উদ্বেগ বাড়ে, চাপ পড়ে।

২। অভিভাবকের মতামত

ইতিবাচক দিক :- সঙ্গী আপনি নির্বাচন করবেন। তারপর সেটা অভিভাবকদের জানাবেন।

নেতিবাচক দিক :- অনেক সময়, পিতামাতার সমর্থন থাকে না। পরিবারও বিপক্ষে যায়। যা সম্পর্কের মধ্যে চাপ সৃষ্টি করে।

৩। অধিকার বা মালিকানা

ইতিবাচক দিক :- সঙ্গী নির্বাচন করার মধ্যে পরিণতমনস্কতা লক্ষ্য করা যায়। এই ক্ষেত্রে যেহেতু অভিভাবকেরা জড়িত নন তাই আগামী দিনে এই সম্পর্কের সাফল্য বা ব্যার্থতার দায়ভারও তাঁদের নয়।

নেতিবাচক দিক :– সম্পর্কে কোনও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হলেও পিতামাতাকে দায়ী করা যাবে না। এমনকি তাঁরা যদি আপনাদের ভালোবাসার সম্পর্কটি মেনে নিলেও নয়।

৪। সঙ্গীর সঙ্গে ঘরোয়া আচরণ

ইতিবাচক দিক :- প্রেমের বিয়েতে এটা অন্যতম ভালো দিক। আগে থেকেই চেনা-জানা থাকায় বিয়ের পর সম্পর্ক সহজ হয়ে যায়। পারস্পরিক বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে ভুলচুক হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

নেতিবাচক দিক :- আগে থেকেই জানা থাকায় বিয়ের পর পরস্পরকে খোঁজার রোম্যান্স থাকে না। দ্রুত একঘেয়ে লাগার সম্ভাবনাও থেকে যায়।

৫। ঝুকির সম্ভাবনা

ইতিবাচক দিক :- নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের প্রতি আপনার ভালো লাগা থাকতে পারে। হয়তো আপনি খেতে ভালোবাসেন কিংবা ঘুরতে। প্রেমের ক্ষেত্রে আপনার সঙ্গীর এই দিকটাও জানতে পারছেন। অথবা, এই দিকটাই আপনাদের কাছাকাছি এনে দিয়েছে। ফলে বিয়ের পর সম্পর্ক জমাট বাঁধতে দারি হয় না।

নেতিবাচক দিক :- অনেক সময় আবেগের বশে প্রেম থেকে বিয়ে হয়। কিছু দিন পর তাঁরা আবিস্কার করে, নিজেদের মধ্যে দুস্তর ব্যবধান। তাঁদের ভালো লাগা, খারাপ লাগা মেলে না। শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদই নিয়তি হয়ে দাঁড়ায়।

৬। সংস্কৃতি ও পরম্পরা

ইতিবাচক দিক :- একে অন্যের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়া অনেক সময়েই আনন্দের।

নেতিবাচক দিক :- মানুষ প্রথম থেকেই একটি স্বতন্ত্র সংস্কৃতির মধ্যে দিয়ে বেড়ে ওঠে। হুট করে অন্যের সংস্কৃতি গ্রহণ করতে বা সেই সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে সমস্যা হয়।

৭। আর্থিক প্রভাব

ইতিবাচক দিক :- অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে উভয়ই সচেষ্ট হয়। ফলে সম্পর্কে দায়িত্ব বাড়ে।

নেতিবাচক দিক :- কোনও আর্থিক টানাপোড়েনে তৃতীয় ব্যক্তির সাহায্য মিলবে না। আর্থিক সমস্যা দাম্পত্যে প্রভাব ফেলে।

৮। সন্তান প্রতিপালন

ইতিবাচক দিক :- মা-বাবাকে সামনে থেকে দেখে শিশুও পরিণত ও স্বাধীনচেতা হয়। জীবন সম্পর্কে স্বতন্ত্র দৃষ্টিকোণ তৈরি হয়।

নেতিবাচক দিক :- দাদু-দিদিমার সঙ্গে পরিচিত না হওয়ায় শিশুর মধ্যে পরিবার সম্পর্কে মূল্যবোধ গড়ে ওঠে না।

৯। পারিবারিক সমঝোতা

ইতিবাচক দিক :- পণ বা নগদ টাকা নেওয়ার মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে না। বিবাহের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় এড়িয়ে যাওয়া যায়।

নেতিবাচক দিক :- প্রেম করে বিয়ের ক্ষেত্রে  বেশীরভাগ সময়ে মেয়ের পরিবারকে খাটো করে দেখা হয়। মেয়ে পাত্র নির্বাচন করায় কনের বাড়িকে সুবিধাবাদী লেবেল সেঁটে দেওয়া হয়।

১০। বিয়ের লক্ষ্য

ইতিবাচক দিক :- বাকি জীবনের জন্য একটি পারস্পরিক অঙ্গীকার।

নেতিবাচক দিক :- কখনও কখনও, এটি নিছক সুবিধা থেকে তৈরি একটি সম্পর্ক হয়ে দাঁড়ায়।

যাইহোক এত চিন্তা-ভাবনার পরেও বিয়ে নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যায় না। এর শেষ কথা বলে কিছু হয়ও না। ওই জন্যই তো বলে, জন্ম-মৃত্যু-বিয়ে তিন বিধাতা নিয়ে।